অনুভূতি



-জানিস মানুষ প্রচন্ড রকম mind conversion ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। 
-যেমন !!!
-আজ ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে ওরা ফুচকা খাবে বলে নামলাম। তিন জন রাস্তা পার হয়ে এক রাউন্ড ফুচকা শেষ করে ভেলপুরীর দিকে যাচ্ছি। আমাদের সমাপ্তির আবার এইসব ভীষণ প্রিয়। ওর বিয়ের মেনু যদি ফুচকা আর ভেলপুরীও হয় ও বোধয় বিন্দু মাত্র আপত্তি করবে না বরং খুশিই হবে। 
-এত সব introduction কি আমি শুনতে চেয়েছি ??
-এসব না শুনলে ব্যাপারটা ঠিক বুঝবি না ,শোন।
-আচ্ছা বল তবে।
-ঠিক ঐ মুহূর্তে রাস্তার অপজিটে একটা প্রাইভেট কার এসে একটা রিক্সার পেছনে লাগিয়ে দিলো। ধুম করে এক শব্দ ,মানুষ দুটো সুপারম্যানের গতিতে উড়ে রাস্তায় পড়লো।
আমরা দাঁড়িয়ে পড়লাম ,সবাইকে বলতে শুনলাম ইসসসসস !!!!!! এক্সসিডেন্ট !!!!! আল্লাহ কি অবস্থা। শুনতে শুনতে বোধয় আমিও কয়েকবার বলে ফেলেছি।
আমরা মিনিট খানেক দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম কি হচ্ছে। এত না হলেও সেকেন্ড দশেক তো হবেই।
এরপরেই যে যার মত ফুচকা ,ঝালমুড়ি খাওয়া শুরু করলো।
মনে হয় কিছুই হয় নি বা এমন রোজই হয়।
অনেকে আবার খেতে খেতেই একটু দুঃখ প্রকাশ করে দিলো।
এরপর অন্য টপিক ,হাসা হাসি ,সব শেষ।
-এটাই স্বাভাবিক। আমাদের একান্ত কাছের কেউ না হলে তার জন্য কষ্ট পাইনা।
-খুব কাছের হলেও কি পাই ???দুদিন পরে ঠিকই ভুলে যাই।
-না পাইনা। এটাই নিয়ম ভুলে যেতে হয়. একটা কথা মনে রাখবি।
প্রকৃতির অস্বাভাবিকতা পছন্দ না
কোনো কিছু অস্বাভাবিক হলেই সে সেটা সরিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে তোলে।
-আচ্ছা শোন এর পরে কি হলো।
আমরা খাওয়া শেষ করে রাস্তা পার করে ফুটপাত ধরে হাটছি। সামনেই এক মেয়ে তার মায়ের সাথে পরীক্ষা শেষ করে যাচ্ছে। তারাও ওই একই এক্সিডেন্ট দেখে ফিরেছে।
মা বলছে -তাড়াতাড়ি চলো বৃষ্টি হবে।
মেয়ে বললো -হ্যা বৃষ্টি তো তোমায় বলেছে
হ্যালো!সালমা। আমি বৃষ্টি। আসছি।
বলেই খট খট করে হেসে দিলো।
সাথে আমিও হাসছি।
আমাদের মাথায় তখন কিন্তু এক্সিডেন্ট ব্যাপারটার বিন্দু মাত্র রেষ ছিল না। কি অদ্ভুত!!!
-আচ্ছা বুঝলাম। তুই এখন কি চাচ্ছিস ??
-চাচ্ছি না কিছুই। আমার মনে হচ্ছে হুট্ করে মন পরিবর্তন মোটেই ভালো নয়।
-তার মানে সবাই এই এক দুঃখ নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেবে ???
-না তেমন তো নয়। মাইন্ড কর্ভার্শন না হলে মানুষ কষ্টই পেতো না।
-কিভাবে ??
-এই যেমন ধরে আজকের এক্সিডেন্ট টাই ,ড্রাইভার হয়তো গাড়ি চালাতে চালাতে অন্য কিচু ভাবছিলো।গাড়ির কন্ট্রোল এর উপর নার মন ছিল না। তার mind conversion না ঘটলে এই এক্সিডেন্ট ই ঘটতো না।
এর পরে দুঃখ পাওয়ারও কোনো কারণ থাকতো না।
-আচ্ছা এটাও ধরে ড্রাইভারের মা/বাবা অথবা খুব প্রিয় কেউ মারা গেলো ,এটা তো প্রাকৃতিক নিয়ম। যদি মাইন্ড কনভার্সন না হতো সেই দুঃখ কি সে কোনো দিন কাটিয়ে উঠেতে পারতো ??
-হুম তও ঠিক ,আমরা তাহলে স্থবির পৃথিবীতে বাস করতাম।
-মাইন্ড কনভার্সন না থাকাটা ডিপেন্ড করে সবার প্রথম কি ঘটবে তার উপর। সুখ থেকে শুরু হলো মানুষ আজীবন সুখে থাকতো।
-তাও তো অসম্ভব।
-হুম কারণ দুঃখ মানুষের প্রিয় অনুভূতি।
-ব্যাপারটা তা কমপ্লেকেটেড।
-তুই জানিস এক সময় তুই বা আমি এই সামান্য চিন্তা টুকুও করতে পারবো না। আমরা রোবট হয়ে যাবো।
মাইন্ড কনভার্সন আরো দ্রুত হবে।
আমরা শুধু আগাবো কিন্তু কেন আগাবো তা আমরাই জানবো না।
-ব্যাপারটা মজার।
-হুম তবে চিন্তারও কিন্তু কম না।

Comments